( জানা অজানা ) চন্দ্র অভিযান এ্যাপোলো ১১
২১ জুলাই মানুষ প্রথম চাঁদে গিয়েছিল
ঘড়িতে ২টা বেজে ৫৬ মিনিট, তারিখ ২১
জুলাই ১৯৬৯। মানবসভ্যতার ইতিহাসে প্রথম
ব্যক্তি হিসেবে চাঁদের মাটিতে পা রাখলেন
আর্মস্ট্রং। সে মুহূর্তে আর্মস্ট্রং স্বগতােক্তি করেছিলেন।
-একজন মানুষের জন্য এটা ছােট পা ফেলা, কিন্তু
মানবজাতির জন্য বিশাল এক পদক্ষেপ। পেছনে
দাঁড়ানাে অলড্রিন ছাড়াও রেডিওর কল্যাণে কথাটি
সরাসরি শুনতে পেয়েছিল পৃথিবীর ৪৫ কোটি
মানুষ।
খরচ হয়েছিল ১৫ হাজার কোটি ডলার
অনেক দিন ধরে মানুষের কাছে চাদ অপার
রহস্যের আধার। চাদ নিয়ে মুখে মুখে তৈরি
হয়েছে কত গল্পগাথা-চাদের পাহাড়ে, চরকা বুড়ি
ইত্যাদি। বহু জ্যোতির্বিদ আর গবেষকেরও চিন্তার
খােরাক জুগিয়েছে চাঁদ। টেলিস্কোপ আবিষ্কৃত
হওয়ার পর চাঁদেই বেশি উকিঝুঁকি মেরেছে মানুষ।
বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝিতে মহাশূন্যে প্রভাব
বিস্তার করা নিয়ে রাশিয়া আর যুক্তরাষ্ট্রের
রেষারেষি চরমে পৌছায়। একজন মহাকাশে
নভােচারী পাঠায় তাে আরেকজন রােবট পাঠিয়ে
কাছ থেকে চাদের ছবি তুলে আন। একবার
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি বলে
বসলেন, শিগগিরই চাদে পা রাখবে
আমেরিকানরা। রাষ্ট্রপ্রধানের মুখরক্ষা বা
রাশিয়ানদের একহাত দেখে নেওয়া-উদ্দেশ্য যাই
হােক না কেন তা সফল করার জন্য ঝাপিয়ে
পড়লেন আমেরিকান বিজ্ঞানীরা। অ্যাপাোলোে
মহাশূণ্য কর্মসূচিতে মার্কিনদের খরচ পড়েছিল
২৫.৪ বিলিয়ন ডলার। বর্তমানের হিসেবে যেটি
প্রায় ১৫০ বিলিয়ন ডলার, মানে ১৫ হাজার কোটি
ডলারের সমান। ১৯৬৮ সালে অ্যাপােলাে-৮ এ
করে তিনজন মার্কিন নভােচারী চাদের কক্ষপথে
ঢকে কাছ থেকে চাদকে পর্যবেক্ষণ করার সুযােগ
পেলেন। তার এক বছর পরই আর্মস্ট্রং-বাহিনী
চন্দ্র বিজয় করে যুক্তরাষ্ট্রকে পাকাপাকিভাবে
ইতিহাসে ঠাই করে দিলেন।
দুই শ ঘণ্টার অভিযান
পৃথিবী থেকে চাঁদ পর্যন্ত ছিল প্রায় ২০০ ঘণ্টার
যাত্রা। যাত্রার দিনে আর্মস্ট্রংদের বিদায় জানাতে
কেনেডি স্পেস সেন্টারে ভিড় জমিয়েছিল শয়ে শয়ে
মার্কিনি। যারা সশরীরে আসতে পারেনি তারা
চোখ রেখেছিল টিভি পর্দায়। তখনকার প্রেসিডেন্ট
রিচার্ড নিক্সন পর্যন্ত সব কাজ বাদ রেখে হােয়াইট
হাউসে বসে দেখছিলেন চন্দ্রযাত্রার প্রথম ধাপ।
ওরা তিনজননিল আর্মস্ট্রং, মাইকেল কলিঙ্সএবং এডুইন অলড্রিন-তিনজনই ছিলেন নাসার জেমিনিপ্রকল্পের সদস্য।চন্দ্র বিজয় করে আসা এইতিনজনেরই জন্ম ১৯৩০ সালে। চাঁদেযাওয়ার আগে সেখানকারআবহাওয়া এবং মাধ্যাকর্ষণেরসঙ্গে মানিয়ে নিতে ব্যাপকপ্রশিক্ষণ ও অনুশীলন করতে হয়েছিল তাদের ।তাঁদের মধ্যে মাইকেল কলিন্সের চাদের মাটিতেপা রাখার সৌভাগ্য হয়নি। কিন্তুতিনি চাদ থেকে ১১১কিলােমিটার দূরে থেকে এটিকেপ্রদক্ষিণ করেছিলেন। দেশেফেরার পর প্রত্যেকের কপালেজুটেছিল জাতীয় বীরের সম্মান।
জুলাই স্যাটার্ন ৫ রকেটের সাহায্যে উৎক্ষেপণ করা হলােঅ্যাপােলাে ১১ কে। প্রচণ্ড গতিতে ১২ মিনিটের মধ্যেই সেটিপৃথিবীর কক্ষপথে পৌছে গেল। পৃথিবীকে ঘিরে দেড়বার চক্করদেওয়ার পর চাদ লক্ষ্য করে ছুটে গেল অ্যাপােলাে ১১। মহাশূন্য যানটিতে দুটি অংশ ছিল। কলাম্বিয়া নামের একটি কমান্ড মডিউল এবং ঈগল নামের একটি লুনার মডিউল । চাদের কক্ষপথে পৌছার পর একটি অন্যটি থেকে আলাদা হয়ে যায়। মাইকেল কলিন্স একাই রয়ে যান কলাম্বিয়ার দায়িত্ব। বাকি দুজন-আর্মস্ট্রং এবং অলড্রিন ঈগলে চেপে চাদের দিকে ছুটে যান।অ্যাপােলাে ১১ চাদে অবস্থান করেছিল ২১ ঘন্টা ৩৮ মিনিট। চাদে নামার প্রস্তুতি নিতে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দুই ঘণ্টা বেশি লেগে যায় । আর্মস্ট্রং সিড়ি বেয়ে নামার সময় টিভি ক্যামেরা চালু করেছিলেন ।২০ মিনিট পর তাঁকে অনুসরণ করেছিলেন সহযাত্রী অলড্রিন ।ক্যামেরার সিগন্যাল ধরা পড়েছিল যুক্তরাষ্ট্র এবংঅস্ট্রেলিয়ার দুটি স্টেশনে। প্রযুক্তি আজকের দিনের মতাে উন্নতছিল না, আবহাওয়াও বাধা হয়ে দাড়াচ্ছিল। তাই ক্যামেরায় মনে হচ্ছিল আধিভৌতিক কোনাে জায়গায় দুটি কালাে মূর্তি চড়ে বেড়াচ্ছে। তা সত্ত্বেও এই ভিডিওটি যখন দেখছিল পৃথিবীর মানুষ তুমুল উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ছিল তারা। চাঁদে নামার সাত মিনিটের মাথায় আর্মস্ট্রং লাঠির ডগায় করে কিছুটা চাঁদের মাটি একটি ব্যাগে পুরে নেন। তারপর ব্যাগটি রেখে দিয়েছিলেন নিজের পকেটে । কোনাে কারণে যদি তড়িঘড়ি করে নভােযানে ফিরে যেতে হয় তাদের, সেজন্য সতর্কতা হিসেবে আগেভাগেই অভিযানের একটা চিহ্ন পকেটে রেখেছিলেন তিনি। পরে অবশ্য দুজনে মিলে আরাে কিছু পাথর সংগ্রহ করেছিলেন।এরপর হােয়াইট হাউস থেকে প্রেসিডেন্টের ফোন গিয়েছিল আর্মস্ট্রংয়ের কাছে। প্রেসিডেন্ট নিক্সন স্বয়ং একে ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুতপর্ণ ফোনকল আখ্যা দিয়েছিলেন। আমিস্ট্রংকে বলার জন্য দীর্ঘ একটা বক্তৃতাও দাঁড় করিয়েছিলেন। তাঁকে অনেক বলে-কয়ে কথােপকথন সংক্ষিপ্ত করে আনা হয়। এরই মধ্যে নভােচারীরা পৃথিবীর একটি দেশ আমেরিকার পতাকা গেড়ে দিয়েছিলেন চাঁদের বুকে।
চাঁদ থেকে আনা পাথরের একটি টুকরো কিন্তু আমাদের এই ঢাকা শহরেই আছে । বলাে তাে কোথায়?








অনেক কিছু জানলাম । ভালো লাগলো ।
ReplyDelete